দোয়া_কবুলের_গল্প সত্য_ঘটনা

 

মিশর । ঘটনাটা এমন একজন মানুষের যিনি আজ থেকে ৩২ বছর আগে তার যৌবনকালে একবার হজ্জ্ব করে ছিলেন । যৌবনকালের সে সময়ের ঘটনাটা এরকম – তিনি তখন নয় সীটের একটা গাড়ি চালাতেন । একদম সামনের সীটে এক দম্পতি বসা ছিল । আর তাদের পাসের সীটে প্রচণ্ড চাপাচাপিতে বসা ছিল এক বয়স্ক বৃদ্ধা মহিলা । বয়সের ভারে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে সে ঠিকমত বসে থাকতেও পারছিল না । এ দৃশ্য দেখে তিনি সামনের সীটে বসে থাকা লােকটিকে অনুরােধ করেছিলনে যেন সে বৃদ্ধা মহিলাটিকে তার সীটে বসতে দেয় আর সে গিয়ে মহিলার সীটে বসে ।

বৃদ্ধা মহিলাটি যেন পা ছড়িয়ে একটু আরাম করে বসতে পারে – তাই তিনি এই অনুরােধটুকু করেছিলেন । কিন্তু সামনের সীটের ভদ্রলােক রাজী হল না । তিনি আবারাে অনুরােধ করলেন , বেশ কয়েকবার অনুনয় – বিনয় করার পর ভদ্রলােক বাধ্য হলেন সিট পরিবর্তন করার জন্য । তিনি গিয়ে বসলেন পিছনের সীটে আর বৃদ্ধা মহিলা গিয়ে একটু আরাম করে বসল তার স্ত্রীর পাশে সামনের সীটে । যখন বৃদ্ধা মহিলা তার পা দু’টি ছড়িয়ে আরাম করে বসতে পারল তখন সে তার জন্য । প্রাণভরে দু’আ করল । বৃদ্ধা মহিলা তার আঞ্চলিক ভাষায় যে দু’আটি করেছিল । যার অর্থ ছিল , “ আল্লাহ্ যেন তােমাকে প্রতিবছর হাজ্জ্ব করায় ”

সুবহানাল্লাহ ! তিনি আজ পর্যন্ত হা করেই যাচ্ছেন তাে যাচ্ছেনই । বৃদ্ধার ত্যা করার বই থেকে শুরু হয়েছে , আজ সুবধি চলছে । গত ৩২ বছরে ৩২ টা হ ৷ কখনও এমনও হয়েছে যে হাফে মৌসুম শুরু হয়েছে কিন্তু তার হাতে প্রয়ােজনীয় অর্থ নেই এমনকি হস্কে নিয়তও নেই কিন্তু কিভাবে যেন কোন প্রস্তুতি ই ভাই হাল্কের বন্দোবস্ত হয়ে গেছে । বৃদ্ধার দুআর কত এখনাে শেষ হয়ে যায়নি ।

এখানে শিক্ষাটা হলাে – আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিসুদ্ধ নিয়তে সৎ – আমল করা । বিপদের মুহূর্তে কারাে জন্য কিছু করতে পারাটা , তাদের উপকারে আসতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার । কখন । কার দুআ কিভাবে কবুল হয়ে যায় আল্লাহ আ’লাম ।
হেদায়েতের গল্প

 

জীবনে তিনি কোনদিন মদ স্পর্শ করেননি, জীবনে তিনি ব্যাবসায় অসৎ পথ অবলম্বন করেননি। তিনি ছিলো নরম মনের একজন হালকা পাতলা গঠনের মানুষ। তিনি কোনদিন গীবত করেননি। উনাকে কোরাইশরা খুব ভালোবাসতো ইসলামে গ্রহণ করার আগে। উনার একটি পারদর্শিতা ছিলো সেটা হলো তিনি কোন গোত্রের উপর থেকে নিচ সবকিছুই জানতেন যা ইংরেজিতে আমরা বলি “Genealogy”।
.
তিনি সত্যকে খুঁজছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে এইসব মূর্তিকে পূজা করার কোন মানেই হয় না আর তিনিও জিবনে মূর্তিপূজা করেননি।
.
তিনি একদিন ক্বাবার পাশে বসে ছিলেন, এসময় এক কবি “উমাইয়্যা ইবনে আবিস সালত” পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি বললেন যে এখনই সময় হয়েছে একজন নবীর আগমনের হয় তোমার গোত্র থেকে নাহয় আমার গোত্র থেকে আসবেন। তিনি দৌঁড়ে ওরাকা বিন নাউফালের কাছে গিয়ে সব বললেন তারপর ওরাকা বললেন যে, হ্যাঁ এখনই সময় এসে গেছে একজন নবীর আগমনের।
.
মুহাম্মদ সালল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম যখন নবুয়তের দাবী করলেন তখন তিনি দৌঁড়ে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন কোন দ্বিধা ছাড়াই কারণ তিনি আগে থেকেই সত্যের খুঁজ করছিলেন। তিনি আর কেউ নয় বরঞ্চ আমাদের অন্যতম প্রিয় সাহাবি “আবু বক্কর আস-সিদ্দিক রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু।”
.
ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন এবং অনেককে ইসলাম গ্রহণ করার দাওয়াত দেন এবং তারা তার দাওয়াতে সাড়া দেন ইসলাম গ্রহণ করার মাধ্যমে।

আর সে সাহাবিরা হলেন আয যুবাইর ইবনুল আওয়াম, উথমান ইবনে আফফান, তাহলা ইবনে উবাইদিল্লাহ, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, উথমান ইবনে মাঘলুম, আবু উবাইদা আমির ইবনুল জাররাহ, আবু সালামা ইবনে আব্দিল আসাল, আল আরকাম ইবনে আবিল আরকাম রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু আজমাইন এবং তিনি তার পরিবারকেও দাওয়াত দেন।
.
তিনি হলেন ইসলামের প্রথমব্যাক্তি যিনি কিনা ইসলামের দাওয়াত পাবলিকের সামনে দিয়েছিলেন। আর এরপর কুরাইশরা উনাকে খুব বাজেভাবে আক্রমণ করে মারতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত না উনার গোত্রের মানুষেরা এসে তাকে বাঁচায়। উনার হুঁশ যখন ফিরলো প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন “মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের কি হলো? তিনি কেমন আছেন” ওয়াল্লাহি নবীর জন্য এই রকম ভালোবাসা এই উম্মতের আজ আর নেই থাকলে আজ আমরা এই রকম থাকতাম না।

তারপর তিনি বললেন যে আমি দুচোখে না দেখে আমি এক ফুটাও পানি পান করবো না তারপর নবীকে দেখার পর খাদ্য গ্রহণ করলেন। সুবাহানআল্লাহ! নবীর প্রতি এতো ভালোবাসা, কোথায় আমাদের ভালোবাসা?
.
তিনি মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না, তিনি সাহায্য করতেন সর্বদা সবাইকে, তিনি খুব বেশি কান্না করতেন। তিনি সবচেয়ে বেশি দাস মুক্ত করেছেন এদের মধ্যে অন্যতম “বিলাল ইবনে রাবাহা রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু।”
.
যখন প্রথম হিজরতের পার্মিশন আসলো তখন তিনি হিজরত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পথে “ইবনুদ দাগিনার” সাথে দেখা হওয়ার পর সে উনাকে প্রটেকশন দিয়ে মক্কায় রাখে। আগেরকার সময় তো আর ভিসা ছিলো না, প্রটেকশন দেয়া নেওয়ার মাধ্যম ছিলো।
.
মি’রাজের ঘটনার পর মক্কায় এক হৈহুল্লড় পড়ে গেলো, রাসুলুল্লাহ যখন তাদের মি’রাজের ঘটনা খুলে বললেন তখন মক্কার কাফিররা বিশ্বাস করলো না উলটা হাসি-তামাশা শুরু করলো। এদের মধ্য থেকের এক ব্যাক্তি আব বকর রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহুকে বললো যে “মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এই এই ঘটনা বলেছেন, তুমি কি তা বিশ্বাস করো?” তিনি উত্তরে বললেন “তিনি যদি বলে থাকেন, তাহলে তা সত্য এবং আমি তা বিশ্বাস করি।”

এরপরই তিনি “আস সিদ্দিক” উপাধি পেলেন।
আবু বকর (রা)-এর ঈমান ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথার উপর অগাধ বিশ্বাসের এটি কেবলমাত্র একটি উদাহরণ। এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত ও নজির দিয়ে তার পুরো জীবনই ছিল ভরপুর। আর আমাদের?
.
উনার কাছে যতটাকা ছিলো তিনি তা সব ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন, গরিব মুসলিমদের দিয়ে দিতেন, দাস মুক্ত করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেন “আমি প্রতিটি মানুষের ইহসান পরিশোধ করেছি। কিন্তু আবু বকরের ইহসানসমূহ এমন যে, তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। তার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তার অর্থ আমার উপকারে যেমন এসেছে, অন্য কারো অর্থ তেমন আসেনি।”
.
দেখুন আল্লাহ একজন ব্যাক্তি দিয়ে ইসলামের কতো কিছু করিয়েছেন আর আমরা ভাবি হয়তো যে আমরা আছি বলেই ইসলাম আছে, না, কখনই না, আপনার আসার আগেই আল্লাহ এই ধর্মকে অন্যদের দিয়ে সাহায্য করিয়েছেন। আল্লাহর সৈনিক অনেক।
.
যখন হজ্জ্বের সময় আসতো তখন রাসুলুল্লাহ এবং আবু বকর রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু হজ্জ্ব ক্যাম্পে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, ইসলাম কি বুঝাতেন এবং অনেকেই গ্রহণ করেছিলো।

রাসুলুল্লাহ হিজরতের জন্য বিভিন্ন গোত্রের সাথে আলাপ-আলোচনা করছিলেন কারণ মক্কায় থাকা প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলো, আর তখন তিনি রাসুলুল্লাহকে বলতেন এই গোত্রের এই এই বৈশিষ্ট্য, আর এই চিন্তাধারা মাথায় রেখে রাসুলুল্লাহ তাদের সাথে আলোচনা করতেন।
.
এরপর যখন মদিনার হিজরতের অনুমতি আসলো তখন রাসুলুল্লাহ আবু বকরকেই সাথী হিসেবে নিলেন এবং উনারা অনেক কষ্ট করে পাহাড়ের উপর লুকিয়ে থেকে, সমুদ্রের ধার পথ ধরে মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেন, পথে তিনি রাসুলুল্লাহর সেইফটি নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন ছিলেন যা সুরাকা ইবনে মালিক রাদ্বি আল্লাহুতায়ালার ভাষ্যমত থেকে আমরা জেনে থাকি।
.
তিনি রাসুলুল্লাহর সাথে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, একটিও বাদ যায় নি। তিনি রাসুলুল্লাহর সাথে একদম ছায়ার মতন থাকতেন, রাসুলুল্লাহর প্রিয় সাথী ছিলেন তিনি।
.
আবুবকর সিদ্দিক রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহুর পেশা ছিলো ব্যবসায়। ব্যাবসা করে যা পেতেন বেশির ভাগ ইসলামের জন্য ব্যয় করে দিতেন এবং দুঃখিদের সাহায্য করতেন। তাবুকের যুদ্ধের সময় তিনি তার সব সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিয়েছিলেন, রাসুলুল্লাহ যখন জিজ্ঞেস করলেন ঘরে কি রেখে এসেছো? তিনি উত্তর দিলেন “আল্লাহ ও তার রাসূলকে রেখে এসেছে” সুবহানআল্লাহ আর আমরা ফকিরকে ৫ টাকা দিতেও ১০০ বার চিন্তায় পড়ে যাই দিবো কি দিবো না।
.
মক্কা বিজয়ের দিন যখন আবু কুহাফা, যিনি আবু বকর রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহুর বাবা, তিনি রাসুলুল্লাহর হাতে হাত রেখে শাহাদাহ পাঠ করেন তখন তিনি অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে বলেছিলেন যে “আমার বাবার হাত আপনার হাতের উপরে রাখা দেখার চেয়ে আপনার চাচার হাত দেখলে আমি এর চেয়ে বেশী খুশী হতাম”
.
রাসুলুল্লাহ যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে নেন তখন কেউ তা মানতে পারছিলো না, তখন তিনিই এসে সবাইকে হুশে ফিরালেন যে হ্যাঁ, রাসুলুল্লাহ আর এই দুনিয়াতে নেই, মারা গেছেন। তারপর সবাই আস্তে আস্তে বুঝতে পারলেন যা সবার প্রিয় মানুষটি, প্রিয় নবী এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে নিয়েছেন একেবারে।
.
রাসুলুল্লাহ মৃত্যুর পর শাষণভারের দায়িত্ব পড়ে আবু বকর রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহুর উপর। উনার আমলে ভূয়া নবী দাবিদারদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ হয় এবং যারা জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিলো তাদের সাথেও। এবং তিনি রাসূল্লাহর প্রেরিত শেষ মিলিটারি বাহিনী যারা মদিনায় অবস্থান করছিলো তাদেরকে পাঠিয়ে দেন যুদ্ধে।
.
মুসাইলামা আল কাজ্জাবের সাথে যুদ্ধে অনেক হুফফাজ শহীদ হয় এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান ওমর রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু, এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোরআন একত্র করার কাজ শুরু করেন। উনার আমলে সাহাবিদের একটি পর্যাপ্ত পরিমান বেতন দেওয়া হতো তাও সমপরিমাণ সবাইকে।
.
আমরা যা এক মুসলিম বিশ্ব পেয়েছিলাম তার ফাউন্ডেশন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়া হয়েছিলো আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহুর শাষণ আমলে।
.
একজন রাজনৈতিক কর্মীকে যদি তার দলের নেতাদের নিয়ে কিছু বলার জন্য বলেন, দেখবেন ঠাস ঠাস করে সব বলে দিচ্ছে, আর যখন কেউ আমাদের আশারা-মুহাশশারাদের নাম বলতে বলেন আমরা হা করে তাকিয়ে থাকি, এটা আমার কি এসব ভাবি। আল্লাহ যেনো সাহাবিদের জীবনি পড়ার তৌফিক দান করেন আমাদের এবং তাদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের তৌফিক দান করেন। আ-মী-ন।
.
“আবু বকর আস সিদ্দিক রাদ্বি আল্লাহুতায়ালা আনহু”

|| শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম ||
– ওয়াহিদুল হাদী।

#শ্রেষ্ঠ_প্রজন্ম
#পর্ব_১

Leave a Reply

Your email address will not be published.