প্রত্যাশার গল্প লেখক মোঃইয়াসিন আহমদ

ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে
প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে খুলতেই অবাক হয়ে
গেলাম আমি।। এ….কি এটা প্রেসক্রিপশন না লাভ
লেটার??
স্পষ্ট বাংলা ভাষায় লেখা –আই লাভ ইউ–যদি —আই
লাভ ইউ টু ডাক্তারে সামনে দাড়িয়ে বলতে পারেন,
তবে আপনার সুস্থ হওয়ার চান্সটা একটু বেশি।। নইলে
ঘোর বিপদ।।।
খুব আশ্চর্য হয়ে গেলাম আমি।। প্রেসক্রিপশন টায়
ভালোভাবে ডাক্তারের নাম চেক করলাম।। নাহ্
কোনোভাবেই তো পরিচিত মনে হচ্ছে না!! তাহলে
কেনো লিখলো এগুলা?? আর ওনাকে তো খুব
ভালোভাবে পর্যবেক্ষণেরর সুযোগও পেলাম না।। শুধু
সমস্যা বললাম আর উনি ওইসব লিখে প্রেসক্রিপশন টা
হাতে ধরিয়ে দিলেন।।
কি যে করি এখন?? আর যে দীর্ঘ ভীড়? কিভাবে ওনার
সাথে আবার দেখা করি? ওনার সাথে দেখা করতে
হলেতো আবারও দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে দাড়িয়ে
থাকতে হবে!!!
কিন্তু ওনাকে তো আমার দেখতেই হবে।। কেনো
লিখলেন এগুলো? আর কেনোই বা আমার সাথে এরকম
মস্করা করবেন??
হয় তিনি কোনোভাবে আমার পরিচিত, নয়তো আমি
উনার পরিচিত।। আমাকে এর বিস্তারিত ব্যাপারটা
জানতেই হবে।। নয়তো সারারাত, সারাদিন পেট
ভুটভাট করবে।।
অবশ্য আমার ডাক্তার কে নিয়ে ভিন্ন চিন্তাও হতে
লাগলো তাই শিওর হওয়ার জন্য আমার পরে বেরুনো
কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন চেক করলাম।। নাহ্
ঠিকি তো আছে।। ওদের তো ঠিকই ওষুধ প্রেসক্রাইব
করেছে।। পরপর তিনজনের টা চেক করলাম।। হ্যা ঠিকি
আছে।। তারমানে তিনি ঠিকই আমাকে ইচ্ছা করেই
এটা লিখেছে।।
এবার মেজাজটা একটু কড়া হলো।। তাই এগিয়ে গিয়ে
জোর করে ডাক্তারের চেম্বারে ঢ়োকার চেষ্টা
করলাম। কিন্তু সহকারির তীব্র বাধায় ঢ়ুকতে পারলাম
না।। অবশ্য সহকারির আচরনটাও আমার সাথে
স্বাভাবিক মনে হলোনা।।। তাই আর কিছু না ভেবে
হসপিটাল করিডোরে অপেক্ষা করতে লাগলাম,, কখন
ডাক্তার বের হয় …..!!!! (কথা কাব্য)

এরি মধ্যে সহকারিকে কয়েকবার আমাকে প্রদক্ষিণ
করতে দেখলাম।। আমার সন্দেহের মাত্রাটা আরো
তীব্র হতে লাগলো।। মনে হচ্ছে এর কোনো গোপন রহস্য
আছে।। তাই করিডোরে বসে নানা ধরনের চিন্তা
করতে লাগলাম,, আর এমন পরিচিত কাউকে মনে মনে
খোজ করতে থাকলাম।।।
কিন্তু কাউকেই তেমন মনে করতে পারছি না।। হঠাৎ ই
ফোনটা বেজে ওঠে আমার।। বের করে দেখি বাবা
ফোন দিয়েছে। আর আমাকে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি
যেতে বললো।। অবশ্য হাসপাতাল থেকে আমার
বাড়িটা বেশি দূরে নয়।।কিন্তু রহস্যের সমাধান না
করে তো যেতেও ইচ্ছে করছে না।।
কিন্তু বাবার বারবার ফোনে আর কিছু না ভেবে
বাড়ির দিকে হাটা দিলাম।।।
সবুজে ঘেরা চারপাশ, সারি সারি গাছ, আর সুউচ্চ
পাহাড়ের ভাজে ভাজে একে বেকে চলা রাস্তাটা
আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।। আজ মাত্র
পনের দিন হলো আমার নিজের গ্রামে ফিরে এসেছি।।
নিজের গ্রামের মাটির গন্ধে যে এতটা মধুময়তা
লুকায়িত থাকে, তা হয়ত দীর্ঘ দিনের বিরতি ছাড়া
বুঝতেই পারতাম না।।।
এবার এতদিন পর নিজ গ্রামে ফিরে এসেছি আমার
কর্মের তাগিদে।। যেদিন আমার চাকুরির বদলি পত্রটা
খুলে নিজ গ্রামের, আমাদের উপজেলার নাম
দেখেছিলাম সেদিন থেকেই এক চাপা উত্তেজনা
কাজ করছিলো আমার মধ্যে।। হয়তো এত ভালোলাগা
কখনও আমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি।। নিজ
এলাকাতে ফিরেই পরে যাই জ্বরের কবলে।। একটু সুস্থ
হলেও, বাবার জোড়াজুড়িতে ডাক্তার দেখাতে
বাধ্য হলাম। অবশ্য আমার সাথে বাবাও আসতে
চেয়েছিলো, কিন্তু আমার জিদের কাছে আর পেরে
ওঠেনি।। বাবা আসলে আজকে যে কি পরিস্তিতির
মধ্যে পড়তে হতো কে জানে?? বাবা অবশ্য এই অবস্থা
দেখলে একরকম খুশিই হতেন আর যেভাবেই হোক
ডাক্তারকে খুজে বের করতেন।।
আমি রাজ।। রাজ আহমেদ।। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
হিসেবে নিজ উপজেলাতেই জয়েন করতে যাচ্ছি।।
অবশ্য এতো তাড়াতাড়ি আমার বদলি হবার কথা নয়।।
বদলি চিঠিতে নিজ উপজেলার নাম দেখে আর
ঘাটাঘাটি করতে যায়নি।।।
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
ভাবতে ভাবতে আর হাটতে হাটতে বাড়ির প্রায়
কাছাকাছিই চলে আসছি।।
রংধনুর রং
বাড়িতে স্থির হয়ে বসতে পারছি না।। বারবার
প্রেসক্রিপশনের দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি,
আসলে ঘটনাটা কেনো ঘটলো আর ডাক্তারই বা এমন
করবে কেনো?? হঠাৎ ই বাবা রুমে ঢ়ুকে পড়লো আর
জিজ্ঞেস করলো —
–কিরে ডাক্তার কেমন দেখলো তোকে?? সব ঠিক
আছে তো?? দে দেখি প্রেসক্রিপশন টা। কি ওষুধ
লিখেছে?? আমি গিয়ে নিয়ে আসি।।
–আ,,,রে না বাবা!!!!সব ঠিক আছে তুমি শুধু শুধু চিন্তা
করছো।। চলোতো আমার খুব খিদে পেয়েছে।।
কোনোমতো মিথ্যে বলেই বাবাকে নিয়ে খাবার
টেবিলে চলে গেলাম।।
খুব তৃপ্তি করে আজ বাবার সাথে বসে খাবারটা
খাচ্ছি। অনেকদিন পর বাবা আর আমি একসাথে খাবার
খাচ্ছি।। আজও মায়ের চেয়ারটা ফাকা রয়ে গেছে।। খুব
মিস করি মা তোমাকে।।। যেখানেই থেকো ভালো
থেকো মা।। ভালো থেকো।। বাবার চোখেও তখন
আবছা জলের আনাগোনা।। হয়তো ছেলের সাথে বসে
এতদিন পর একসাথে খেতে পারছে, নয়তো হারিয়ে
ফেলা সহধর্মিণীর কিছুটা স্মৃতি তাকে নাড়া
দিচ্ছে।। আমি উঠে গিয়ে বাবার পাশে বসলাম।। বাবা
আমার হাতটা ধরে তার গালের সাথে লাগিয়ে চুমো
দিতে থাকলেন।। আর একহাত দিয়ে আমাকে খাইয়ে
দিতে লাগলেন।।।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ থেকে বাবা বললেন ;
–বাড়িতে আসার পরে তুই তো ঠিকমতো খেতেই
পারছিলি না অসুস্থতার কারনে।। আজকে পেট পুড়ে
খাবি।।।
–হ্যা বাবা তোমার হাতের রান্না খুব মিস করেছি
বাবা।।
–তাই,,,,, না??
–হুম বাবা।।।
—তাহলে বলি কি এবার একটা বিয়ে করে নে।। আমিও
নতুন কারো হাতের রান্না খেতে পারবো আর কি।।
বাবার মুখে কথাটি শুনেই বিষম খেলাম আমি।। বাবা
পানি এগিয়ে দিলেন।। এরইমধ্যে হঠাৎ ই বাসার
কলিংবেল বেজে ওঠে।।
বাবা আমাকে রেখেই দরজার দিক যাচ্ছিল।। কিন্তু
আমি বাবাকে থামিয়ে দিয়ে, দরজার দিকে এগিয়ে
গেলাম।। খুলে দেখি কুরিয়ারের লোক দাড়িয়ে আছে।।
কলমটা বেড় করে আমাকে সই দিতে বললো আর একটা
চিঠি হাতে ধরিয়ে দিলো।।। লোকটাকে বিদায় করে
রুমে ঢ়ুকলাম।। চিঠিতে প্রেরকের নাম দেখে আবারও
আশ্চর্য হলাম।। একি এটাতো সেই ডাক্তারের নাম।।
ডাঃ মেহরীন চৌধুরী।। আমার বিস্ময়ের মাত্রা
বেড়েই চলছে।।
তারপর বাবাকে কোনোমতো আমার অফিসের চিঠি
বলে পাশ কাটিয়ে গেলাম।। বাবা কেমন চোখে
যেনো আমার দিকে তাকালো।। তারপর বেলকুনিতে
গিয়ে দাড়ালাম।। মনের ভেতর এক অজানা কৌতুহল
কাজ করছিলো।।। তাই তাড়াতাড়ি করেই চিঠিটা
খুললাম।।
চিঠিটা খুলে আরো অবাক হলাম আমি।। চিঠির
লেখাটি আমাকে ভাবিয়ে তুলছিলো।। থ হয়ে গেলাম
আমি।। বড় ধরনের ধাক্কা আমাকে ছুয়ে গেলো।। মনে
পড়ে গেলো পুরানো স্মৃতিচারণের সেই সময়গুলো।।।
হ্যা,,,,!!! এতো সেই মিহা।। যাকে কোনোভাবেই
ভুলতে পারবো না আমি।। চিঠির লেখাগুলোর কথা
জীবন্ত হয়ে ওঠছে আমার কাছে।।।
——–
———- স্যার …!!এখনও সেই সাদামাঠাই রয়ে গেলেন।।
একটুও পরিবর্তন আপনাকে ছুতে পারেনি। আজকেও
পরিবর্তন হার মানলো আপনার বিশালতার কাছে।।
যাক এতদিন পর আপনাকে এভাবে দেখবো ভাবতে
পারিনি স্যার।। প্লিজ স্যার আজকে আবারও বলছি
চশমার ফ্রেমটা চেঞ্জ করবেন কিন্তু …..
আর শীঘ্রই দেখা হবে আমাদের ….
আর সেদিন যেনো চশমাটা চেঞ্জ দেখতে পাই।। নইলে
……….
:::::::::
[ডাঃ মেহরীন চৌধুরী মিহা ]

হ্যা মিহা।। আমি কখনই ওর পুরো নামটা জানতাম না।।
আর ও যে ডাক্তার হয়েছে, সেটাতো আমার মনেই
ছিলোনা।।। খুব সাদাসিধে, সোজাসাপটা টাইপের
মেয়ে ছিলো মিহা…..
তখন আমার বি.সি. এস পরীক্ষার আর কয়েকমাস বাকী।।
তাই শেষের সেই মাসগুলোতে আর মিহার সাথে তেমন
যোগাযোগ রাখতে পারিনি …..
অবশ্য লাস্ট একবার শুধু ……

Leave a Comment