গল্পঃ #প্রত্যাশার__প্রাপ্তি। ইয়াসিন আহমদ

 

তখন আমার বি.সি.এস পরীক্ষার আর কয়েকমাস বাকি।।
তাই শেষের সেই মাসগুলোতে আর মিহার সাথে তেমন
যোগাযোগ রাখতে পারেনি।।
অবশ্য লাস্ট একবার শুধু দেখা করেছিলাম ওর মেডিকেল
এডমিশন পরীক্ষার আগের দিন।। খুব করে রেকুয়েস্ট
করেছিলো মিহা, যেনো একবার হলেও তার সাথে
দেখা করি।। যদিও সে জানতো, আমি বিসিএস
পরীক্ষার জন্য খুবই ব্যস্ত ছিলাম। তবুও সেদিন জোর
দিয়ে বলেছিলো মিহা। তাই সেদিন দেখা করতে
গিয়েছিলাম ওর সাথে।।
শুধুমাত্র মিনিট পাচেক কথা হয়েছিলো সেদিন
মিহার সাথে।। ওর চোখগুলো সেদিন খুবই স্যাতসেতে
ছিলো।। আমার মনের ভেতরটা খুব করে জড়োসড়ো হয়ে
আসছিলো।। ও আমার সাথে রমনায় দেখা করেছিলো।।
সুন্দর পরিপাটি নীল শাড়ি, ম্যাচিং ব্লাউজ, কপালে
ছোট কালো টিপ, ঠোটে হালকা লিপস্টিক, আর
খোলা অবাধ্য চুলে আমার সামনে দাড়িয়েছিলো
সেদিন।। সেদিন ২য় বার মিহার প্রেমে পড়েছিলাম
আমি।। খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো তাকে ………..
খুব ভালোবাসি মিহা তোমায়।। আমাকে তোমার
চলার সাথি করে নিবে কি মিহা??
কিন্তু কোথায় যেনো আটকে গিয়েছিলাম আমি।।
আমার স্পষ্ট, নির্লজ্জ ভাবে তার দিকে তাকানোয়,
মিহা একবার লজ্জামাখা চাহনিতে বলেছিলো –কি
দেখছেন স্যার??
ওর কথায় ঘোর কাটিয়ে বললাম –কই কিছু না মিহা।।
আসলে তোমায় খুব সুন্দর লাগছে।। কথাটি শুনেই ওর
ঠোটের কোনায় এক চিলতে হাসি সুস্পষ্ট হলেছিলো।।
তারপরই আমি বললাম —
–কেনো ডেকেছিলে মিহা??
–কেনো, আপনার কি খুব তাড়া আছে আজকে?? (মিহা)
আমি নির্লজ্জের মতো সেদিন মাথা নাড়িয়ে
বলেছিলাম, হ্যা মিহা।।।
নিমিষেই তার চোখে মুখে কালো আধার নেমে
গিয়েছিলো।। আমি আবারও তাকে বলেছিলাম —
— কালকে তো তোমার স্বপ্ন পূরনের পরীক্ষা, তাই না
মিহা??
–হুম।। (মিহা)
–ঠিকভাবে প্রিপারেশনটা শেষ করেছো??
–হুম (মিহা)
তারপর কিছুটাইম দুজনেই স্থির ছিলাম।। মিহার ভেতর
কেমন যেনো পরিবর্তন ছেয়ে আসলো।। ও বললো —
–কালকে পরীক্ষা,, হয়তো চান্স পাবো আবার নয়তো
নাও পেতে পারি স্যার।। তাই শেষ দেখা করতে
এলাম।। দোয়া করবেন আমার জন্য।। (মিহা)
তারপর হঠাৎ ই তার ফেরার তাড়াহুড়ো বুঝতে
পারছিলাম।। তাই তাকে শেষ অভিনন্দন টা দিয়ে
দিলাম।।
ও চলে যেতে লাগলো,, হয়তো অভিমানটা জেকে
বসেছে।। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না আমার।।।
আমি সেখানে ঠায় দাড়িয়ে ছিলাম।। ওর কিছুদুর
যেতেই আমি নিজের সাথে পেরে ওঠতে না পেরে
পিছু ডেকে বসলাম।। ও উৎসুক চোখে পেছনে তাকিয়ে
বলেছিলো—
—কিছু বলবেন স্যার??
ওর চোখে তখনও ভেজা ছায়া। আমি বলেছিলাম —
–ভালো থেকো মিহা।।
প্রচন্ড নিরাশতায় সেদিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো
মিহা।। আমি আর সেখানে দাড়িয়ে থাকতে
পারিনি।। দ্রুত ফিরেছিলাম রুমে।।।
রংধনুর রং
আসলে বাস্তবতা ……!!!বাস্তবতা অনেক কঠিনভাবে
প্রকাশ পায় কিছু কিছু মানুষের জীবনে।।
মধ্যবৃত্ত মানের পরিবারে জন্ম আমার।। ছোটবেলায়
মাকে হারিয়েছি।। বাবাকেই ছোটবেলা থেকে মা
আর বাবার জায়গায় দেখেছি।। ছোটবেলা থেকেই
আমাকে সমান আদরে বড় করে তুলেছিলো বাবা।। খুব
শিক্ষিত ছিলেন না আমার বাবা, তবুও একবুক স্বপ্ন
দেখতেন নিজের ছেলেকে নিয়ে।। খুব সুন্দর আর বন্ধুর
মতো করে মিশে থাকে বাবা আমার সাথে।। আমার
শৈশবের,, কৈশোরের, যৌবনের সকল সময়েরই সবচেয়ে
কাছের বন্ধু হলো বাবা।।
তাই ছোটবেলা থেকেই বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ
দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছিলাম।।

তখন ঢ়াকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষের ছাত্র আমি।।
অবশ্য শেষবর্ষের পরীক্ষা তখন শেষ করেছি আমি।।
অনেক স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশ সিভিল সার্জনের
একজন সদস্য হওয়ার।। তাই প্রথম থেকেই প্রিপারেশন
নিয়ে আসছিলাম।। যখন আমার শেষবর্ষের পরীক্ষা শেষ
হয়, তখন হঠাৎ ই বাবা প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন।। আমাকে
বহন করার মতো টাকা তিনি বাসায় থেকে তখন দিতে
পারছিলেন না।। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই টিউশানির
খোজ করতে থাকি।। যদিও টিউশনি ব্যাপারটা আমার
কাছে একেবারেই অপছন্দের, তবুও বাস্তবতার
কড়াঘাতে আমি বাধ্য হয়েছিলাম।।
তেমনি এক দুপুর বেলায় আমাকে ফোন দিয়েছিলেন
মিহার মা।। খুব গুরুগম্ভীর আর শান্ত স্বভাবের ছিলেন
তিনি।। খুব অল্প কথা বলতেন তিনি।। সেদিন খুব ছোট্ট
করে বলেছিলেন —
— তুমি কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ছাত্র।।
আমি শুধু মাথা নাড়িয়েছিলাম।। তারপর ভালোভাবে
আমাকে পর্যবেক্ষন করে বলেছিলো —
— একটু দেখে পড়িয়ো, যেন আমার মেয়ের স্বপ্নটা পুরন
হয়।।
আমি তখনও মাথা নাড়িয়েছিলাম।। অবশ্য আমার এমন
অবস্থা দেখে পাশে থেকে মিহা সেদিন ফিক করে
হেসে ওঠেছিলো।।

তারপর যেদিন থেকে ওকে পড়াতে শুরু করলাম, সেদিন
থেকেই ওর প্রানবন্ততা আমাকে মুগ্ধ করেছিলো।।
যথেষ্ঠ মেধামী ছাত্রী মিহা।। পড়ার প্রতি যেমন ওর
ঝোক ছিলো, তেমনি ছিলো প্রগাঢ়তা।। অবশ্য
কয়েকদিনের মধ্যেই বুঝতে পারি, ওর অন্যান্য
বিষয়গুলিতে ছিলো ব্যাপক পটুতা।। নিমিষেই
যেকারো সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে।। খুব
স্পষ্টবাদী মেয়ে মিহা।। যেটুকু সময় তাকে পড়িয়েছি,
সেটুকু সময় আমার বেশ ভালোই কেটেছে ওর টক মিস্টি
কথার সাথে।। কথা বলাতেও যেমন পটু, তেমনি দুষ্টুমি
তেও ছিলো সবার ওপরে।।
একবার আমি মিহাকে পড়ার জন্য একটু চড়া কথা
শুনিয়েছিলাম,, ব্যাস তাতেই আমার তিনদিন
বিছানায় থাকতে হয়েছে।। সুন্দর ভাবে মিষ্টি কথায়
আমাকে মরিচের শরবত খাওয়াতে বাধ্য করে ওর
মায়ের সামনে।। যেনো আমি ছাড়া এ কাজটি আর
কেউ টেরই পেলো না।। আর তাতেই পেটের পীড়ায়
তিনদিন বিছানায়।। খুব রাগ হওয়ার কথা ছিলো ওর
কান্ডে কিন্তু আমার রাগ নিমিষেই পানি হয়ে যায়
ওর মিস্টি হাসির ফুলঝুরিতে।। আমাকে কাবু করে ও
যেনো খুব তৃপ্তি পেয়েছিলো।। ওর দুরন্ত হাসি সেদিন
তাই বলে দিচ্ছিলো।। ওর ওমন ছেলে মানুষীতে আমার
মুখে এক চিলতে হাসির উদয় হয়েছিলো।।
সেই ঘটনার পর থেকে প্রায়ই দেখতাম ওর আমার প্রতি
ছোট ছোট কেয়ারিং গুলো । প্রতিদিন কিছু না কিছু
স্পেশাল খাবার আমার জন্য রেডি করতো, আমার ছোট
ছোট চাওয়াগুলিকে খুব প্রাধান্য দিতো। মাঝে
মাঝে আমার দিকে এক নাগাড়ে তাকিয়ে থাকতো।।
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
বিষয়গুলি আমাকে অনেক কিছুই স্পষ্ট করছিলো।। আমি
বুজতে পারছিলাম ওর আমাকে ঘিরে এক অন্য ধরনের
ফিলিংস তৈরি হচ্ছিল।। যা তখন পর্যন্ত কোনোভাবেই
আমার কাম্য ছিলোনা।। তাই আমিও বিভিন্নভাবে
ওকে ইগনোর করতে থাকলাম, বিভিন্ন ছুতোয় ওকে
বোঝানোর চেষ্টা করতাম, ও যেটা ভাবসে, সেটা
ঠিক নয়।। কিন্তু আমার কোনো কাজই যখন সফল হচ্ছিল না
তখন নিজে থেকেই ওকে আর পড়াতে যেতাম না।।
বেশকিছু দিন পর ওর মা তেমনি এক দুপুর বেলা আমাকে
আবারও ফোন দেয় আর দেখা করতে বলে।।

উনার সামনে চুপচাপ বসে ছিলাম আমি।। মিহা দুর
থেকে ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।।
তারপর মিহার মা খুবই শান্তভাবে আমার দিকে
তাকিয়ে বললো —
–বাবা রাজ তুমি কি নিয়ে মন খারাপ করেছো তা
আমি জানিনা আর জানতেও চাই না।। শুধু বলো তুমি কি
আমাদের ব্যবহারে কোন কষ্ট পেয়েছো?? তুমি চাইলে
আগে যেভাবে আসতে, সেভাবেই আবার শুরু করতে পারো।
আমি কিছু বলতে পারলাম না উনার কথার বিপরীতে।।
শুধু মাথা তুলে বললাম ঠিক আছে আন্টি, আমি
আগামিকাল থেকে আসবো।।

তারপরথেকে মিহাকে আবারো পড়াতে আসতাম।।
কিন্তু মিহা তখন থেকে বেশ চুপচাপ থাকতো।। ওর
নিস্তব্ধতা আমাকে মাঝে মাঝে চুরমার করে
দিচ্ছিলো।। আমি কোনোভাবেই ব্যাপারটা মেনে
নিতে পারছিলাম না।। তাই মিহাকে একদিন বলেই
বসলাম —
–মিহা তুমি কি আমাকে আর সহ্য করতে পারছো না।।
যদি সেরকম হয়, তাহলে বলো আমি আর আসব না।।
কথাটি শুনে মিহা গভীর ভাবে আমার দিকে
তাকালো আর বললো —
— না স্যার।। আপনি আসবেন, অবশ্যই আসবেন।। আপনি না
আসলে আমার স্বপ্ন পুরন হবে না স্যার,,। আপনাকে না
দেখে আমি থাকতে পারবো না।।
আমি তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম ওর কথা শুনে।।
তারমানে ওর আবেগটা তখনও বজায় ছিলো।। আস্তে
আস্তে মিহার দিকে ঝুকে পড়ি আমি।। এদিকে ওর
এডমিশন পরীক্ষা প্রায় হাতের কাছে।। তাই পড়া
থেকে বিরতি নিতে হবে।। ওর মাকেও বিষয়টা
জানালাম।।
তারপর শেষ যেদিন ওদের বাসাতে পড়াতে যাই,
সেদিন বাড়িটা খুব করে সাজানো ছিলো।। আমি
ভেতরে ঢ়ুকেই বেশ অবাক হয়েছিলাম।।
তারপর জানতে পারি আমার জন্যই নাকি এত আয়োজন।।
আর এর সবটাই নাকি মিহা করেছে।।
হ্যা সেদিন আমার জন্মদিন ছিলো।। জানিনা বিষয়টা
মিহা কিভাবে জেনেছিলো।। আর আজ পর্যন্তও
জানতে পারিনি।। হয়তো গভীর ভাবে সত্যিই
ভালোবাসতো আমায়।। তাই নিজের সাধ্যেই জোগাড়
করেছিলো এগুলো।।
সেই আয়োজনে আবারো একই সাজে প্রথম মিহা আমার
সামনে এসেছিলো। আর সেদিনও একই মায়া নিয়ে
তাকিয়ে ছিলাম আমি।। হয়তো সেটাই ছিলো প্রথম
প্রেমে পড়া মিহার প্রতি।।
সেদিনকার সর্বত্র আয়োজন শেষে, আমাকে অবাক করে
দিয়ে, আমার হাতটা ধরে সবার অগোচরে ছাদে নিয়ে
যায় মিহা।।
আমি তখনও ঘোরের মধ্যে ছিলাম। কি করছিলো কি
মিহা?? ওকি পাগল হয়ে গেলো নাকি??
হ্যা সত্যিই তেমন কিছুই করেছিলো সেদিন আমার
সাথে ও।। কান্নারত কন্ঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে
বলেছিলো
–আপনাকে ছাড়া ভালো থাকবো না স্যার, আর
আপনাকে ছাড়া ভালো কিছু করতেও পারবোনা।
প্লিজ স্যার আমাকে আপনার সাথে থাকার সুযোগটা
দিন।।
আমি তখনও কিছু বলছিলাম না।। শুধু চেয়ে চেয়ে ওর
কথাগুলো শুনছিলাম।।
কিভাবে পারবো আমি, কিভাবে?? আমারতো অনেক
দায়িত্ব, অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা, অনেক প্রত্যাশা,
বাবার মায়াবি চোখের রঙিন স্বপ্ন,, সবগুলোই আমাকে
বিশাল ভাবে বাধা দিচ্ছিল।। আমি কিছুতেই পেরে
ওঠছিলাম না মিহা কথায় সায় দিতে।। তাইতো
সেদিনও মিহাকে নিরাশ করে ভেজা বিড়ালের
মতো চলে এসেছিলাম তার কাছ থেকে।। পেছন থেকে
সেদিন ওর হাউমাউ করে কান্নাও আমাকে দমাতে
পারেনি।। খুব ভালো আমিও বাসতাম মিহাকে, কিন্তু
তা অগোচরেই থেকে গেলো আজ পর্যন্ত।। চোখের জল
গড়িয়ে পড়ছিলো আমার।।

হঠাৎ ই বাবা রুমের ভেতর এসে আমার কাধে হাত
রাখে।। তাড়াহুড়ো করে চোখের জল মুছে বাবার
দিকে তাকাই।। বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরলো তার
বাহুডোরে। জানিনা বাবা কিছু আন্দাজ করতে
পেরেছিলো কি না?? তারপর বললো —
ড্রয়িংরুমে কেউ তোর জন্য অপেক্ষা করছে।।
আমি চলে গেলাম ড্রয়িংরুমে।। জীবনের সবচেয়ে বড়
ধাক্কাটা খেলাম আজকে।। নিজের চোখকেই বিশ্বাস
করতে পারছিলাম না আমি।। আমি বোধহয় তয় বার
প্রেমে পড়লাম।। মিহা সেই একই সাজে আমার সামনে
দাড়িয়ে আছে।। কিছুক্ষণ দুজনে এভাবেই দাড়িয়ে
ছিলাম। হঠাৎ ই মিহা আমাকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে
ধরলো।।
আজ আর কোনো বাধাই আমাকে আটকাতে পারলো
না।। আমিও জড়িয়ে নিলাম মিহাকে।। এক পরম
ভালোবাসার মুহুর্ত।। দুজনের চোখেই জল গড়িয়ে
পড়ছিলো।। কিছুক্ষণ পর মিহাকে আমাকে ছেড়ে
বললো–
–কি এখনো চশমাটা বদলান নাই কেনো মিস্টার??
এখুনি খুলুন বলছি।।
বলেই আমার চশমাটা খুলে নতুন আরেকটি পড়িয়ে
দিলো মিহা।।
— আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা
বলেছিলাম না।। সেই যে আমাকে ছেড়ে সেদিন
পালিয়ে ছিলেন।। কিন্তু পারলেন নাতো লুকিয়ে
থাকতে।।
আমি কিছু বলতে লাগলাম, কিন্তু আমাকে থামিয়ে
বললো —
–চুপ করুন, আজ আমি বলবো আপনি শুনবেন।।
আসলে ওই ঘটনার পরই বুঝতে পারি, আপনার সিদ্ধান্তই
ঠিক ছিলো।। আপনিই ঠিক ছিলেন, আমিই ভুল ছিলাম।।
তাই সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।।
প্লিজ আজকে বলুন না ভালোবাসি মিহা।।
ভালোবাসি তোমায়।।
আমি আর কিছু না ভেবেই ওকে জড়িয়ে বললাম —
—ভালোবাসি মিহা,,,, খুব ভালোবাসি তোমায়।।
তারপর ওর মাথাটা তুলে বললাম, মিহা কিভাবে তুমি
আমার খোজ পেলে??
মিহা হেসে ওঠলো আমার কথা শুনে।। তারপর বাবা
শুস্কভাবে কেশে ওঠলো।। আমরা নিরাপদ দুরুত্বে
দাড়িয়ে গেলাম।। বাবা মুচকি হেসে আমার
ডায়রিটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন।। আমি থ হয়ে
গেলাম।।
তারপর বাবা আর মিহা একসাথে হেসে ওঠলো।। আমি
আরো বেশি অবাক হলাম।।। তারমানে বাবা……….!!
তারপর আর কি,,,,,,,
আমি, বাবা আর মিহা …………….
.
(সমাপ্ত)

Leave a Comment