ভালবাসার মিত্তা অভিনয়। সত্যবার্তা

True Story “বারজা বোরহান বিপুকে “ আমি চিনি ৬ বছর যাবত । আমাদের সম্পর্কের শুরুটা হয় বন্ধুত্বের মাধ্যমে ২০১৫ সালের দিকে । তারপর প্রণয়, এবং ২০২০ সালের ২০ শে ফেব্রুয়ারী আমাদের সম্পর্ক পরিপূর্ণ হয় বিয়ের মাধ্যমে । গতকাল ১২ এপ্রিল আমরা আমাদের চার বছরের প্রেম এবং দুই বছরের সংসারের ইতি টানলাম৷

আমাদের সম্পর্কের শুরুটা খুব ভালই ছিল৷ আর ৫-১০ টা সম্পর্কের মতো আমাদেরও ঝামেলা হত৷ আমিও ভাবতাম মানুষ মাত্র ভুল৷ তাই প্রতিবারই কোন না কোন ভাবে সবকিছু ঠিক হয়ে যেত৷

True Story

আমাদের দুই পরিবারের মধ্যেও সম্পর্ক এত ভাল ছিল যে আমরা বিয়ের মতো সিদ্ধান্তে আসি । ও পরিবার নিয়ে এসে আমাদের বিয়ের দিন , তারিখ ঠিক করে যায়৷ সে সময়গুলো না এতই ভালো ছিল যে এখনো মনে পড়লে আমার অবাক লাগে ! বিয়ের শপিং থেকে শুরু করে ডালা সাজানো সবকিছু আমার নিজের হাতে করা ছিল। তবে তাদের এক্টাই শর্ত ছিল যে বিপুর বিয়ের কথা ৬ মাস পর সবাইকে জানানো হবে৷
যেহেতু ৪ বছরের প্রেমের একটা রূপ পেতে যাচ্ছে আর যেখানে ওর বাবা, মা, বোন, দুলাভাই নিয়ে এসে বিয়ে হচ্ছে , কাজেই বিয়ের মত এরকম একটা ব্যপার লুকানো নিয়ে আমাদের পরিবারের মনে কোন সন্দেহ আসে নি৷

True Story

হ্যা এখন বুঝতেসি, এটাই ছিল আমাদের সবচে বড় ভুল৷ বিয়ের মতো এরকম একটা ব্যাপার তারা তাদের পাড়া প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন কাওকে জানায় না মানে ব্যপারটা ছিল এরকম যে আমি বিবাহিত , এটা আমার আত্মীয় স্বজন , প্রতিবেশী এবং বন্ধু -বান্ধব সকলেই জানে আর তার ছেলে বিয়ে করে ঘরে বৌ থেকেও অবিবাহিত ।

True Story

শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল । বিয়ের কয়েক মাস পরেই আমি জীবনের সবচে বড় ধাক্কাটা খেলাম যেবার বিপু আমার গায়ে হাত তুলল !! তাও নারী ঘটিত কেলেংকারির জন্য ! আমি না কাওকে কিছু বলতে পারিনি সেবার৷ আমার সবচে পছন্দের যে মানুষটা আমাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে এসেছে, সে মানুষটাই কয়েকটা মাস পর অন্য মেয়ের সাথে ধরা খেয়ে আমার গায়ে হাত তুলল৷ বিপু অন্য মেয়ের জন্য আমাকে মারতে পারে? সম্পুর্ন একটা সপ্তাহ আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম ।

True Story

জানিনা কিভাবে সেই দিনগুলো কাটিয়ে উঠলাম। অনুতপ্ত হয়ে প্রতিবারের মত ক্ষমা চাইল, আমিও সবকিছু ভুলে সংসারে মন দিলাম৷

কিন্তু বিপু আমাকে আবার ভুল প্রমাণ করে দিল৷ কিভাবে করে যেন এসব কিছুর জন্য আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হল৷ হবেই বা না কেন৷ সবাই তো জানে ছেলে অবিবাহিত৷ আমার উপর হলো আরেকবার শারিরীক নির্যাতন৷ কারণ ওইযে একই, আমি ঘরে থাকলে অন্য রুমে যেয়ে মেয়েদের সাথে কথা বলত , ভিডিও কল দিত । ম্যাসেজিং করত। রাতের বেলা মাওয়া যেত মেয়ে নিয়ে ঘুরতে , বিভিন্ন ডেটিং এপে মেয়েদের সাথে কথা বলে তাদের সাথে দেখা করত। এগুলো নিয়ে বাধা দিতে গেলেই বাধত সমস্যা৷

True Story

মানুষ পছন্দ করে বিয়ে করেও ভালো থাকে যদি প্রিয় মানুষের সাথে সাথে সেই পরিবারের মানুষ গুলোও সত্যিকার অর্থে মানুষ হয় । যদি ছেলের অন্যায় কে প্রশ্রয় না দিয়ে ভুল শুধরে দেয় ।

২য় বার আমার গায়ে হাত যখন হাত দিল, আমি ওর পরিবার কে জানাই৷ কিন্তু এমন আচরণ পেয়েছিলাম যে ব্যপারটা খুবই স্বাভাবিক। ছেলে মানুষ, বিয়ের বয়স -ই নাকি হয় নি। বয়স কম তো , তাই এরকম করতে পারে৷ এসব কিছু দেখে আমাদের সম্পর্কটা ধরে রাখার জন্য , সবাইকে জানানোর জন্য আমি তাড়া দিতে থাকি৷ এটাই ছিল তাদের চোখে আমার ভূল৷ ২ টা বছর বিয়ে করার পরও কেও জানতই না আমি বিপুর বউ হই৷ আমাদের ছবি দেওয়া এমনকি ওর এলাকার পরিচিত কারো সাথে কথা বলাও আমার নিষেধ ছিল৷ সেসব নিয়ে আমার কোন সমস্যা ছিল না। আমি শুধু চাচ্ছিলাম সবকিছু বাদ দিয়ে আমার সংসার টা টিকে যাক ।

True Story

শেষবার আবার অতি তুচ্ছ কারণে বিপু আবার আমার গায়ে হাত তুলল৷ আগের থেকেও বেশি ভয়াবহ ভাবে৷ আমার মনে আছে আমার বুকের ওপর যখন হাটু দিয়ে চাপ দিচ্ছিল, আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল৷ সবচেয়ে প্রিয় মানুষের থেকে মনেহয় এরকম আচরণ নেয়া যায়না৷

আমি চলে আসি আমার বাবার বাসায় এবং প্রথমবারের মত বাসায় সবকিছু জানাই । মেয়ের এরকম দেখে যে কোনো বাবা-মা’র রেগে যাওয়া টাই স্বাভাবিক । আর এটাই আমার জন্য কাল হয়ে গেল । তাদেরকে কেন জিজ্ঞেস করা হয়েছে কি ভূলে আমাকে এভাবে পশুর মত মারলো, এজন্য তারা আমাকে আর রাখবে না…

একটা মেয়ের সংসার যেভাবেই হোক তার পরিবার টিকিয়ে রাখতে চায়। কেন মেয়েকে মারলো তার উত্তর জানার অধিকার মনে হয় আমার বাবা- মা’র নাই । তাই সম্পর্কটা ঠিক করার জন্য আমাদের ভুল না থাকার সত্ত্বেও বহুবার আমার বাবা -মা তাদের কাছে ক্ষমা চায় । কিন্তু কোন ক্ষমা নাকি তাদের মনোঃপুত হচ্ছেনা তাদের মন গলে নাই ।

আমাকে ২-৩ বার নিয়ে গেসে সে বাড়িতে রেখে আসবার জন্য ।তারা আমাকে রাখে নাই। আমার শাশুড়ী সে একজনের মা হলেও প্রকৃত মা হিসেবে তিনি ব্যর্থ । তিনিও আমাকে রাখলেন না৷ আমাকে শুনতে হলো তিনি বিয়েতে রাজিই ছিলেন না৷ তাহলে আসলেন কেন আম্মা আমাকে আপনার বাড়ির বউ করে নিতে? বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করতে? কিংবা বিয়েতেই কেন ছিলেন আম্মা? যদি আপনি না-ই চেয়েছিলেন তখন! আপনি তো মা, কেন আমার জায়গাটা বুঝলেন না !!

আর আমার বাবার সমতুল্য শশুরের কথা আর কি বলব , সেসব বলার মত অবস্থায় আমি নেই । তার থেকেও শুনতে হলো এর পর আরো বেশিও মারতে পারে আমাকে । আচ্ছা তারা কি আমাকে পেটানোর জন্যই নিয়ে গেসিলো ? মেয়েরা কি সত্যিই বাবার বোঝা? যে এ কথা শুনবার পরেও সেখানে কোন বাবা মেয়ে দিতে চাইবে?

এত কিছুর ভিতরেও আমাকে চাপ দিতে থাকে বাসা থেকে গাড়ি দেবার জন্য ৷ বলা শুরু করল ওর পাশে বসতে হলে আমাকে নাকি আমার বাড়ি থেকে চার চাকা নিয়ে আসতে হবে৷ আরও বলে আমার বাবার থেকে আমার প্রাপ্য সম্পত্তি নিয়ে চলে আসতে, তাহলে নাকি সবকিছু ঠিক করে নিবে৷ মানুষটা দিন দিন এত লোভী হয়ে যাচ্ছিল, যে আমার বিপুকে আমারই চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল৷
তবুও আমি এত কিছুর পরও বিপুর সাথে সংসার টা টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছিলাম৷ সব কিছুর জন্য আমি সরি বলতেসিলাম তাদের । কারণ আমাকে আমার বাবা- মা এমন শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে যেখানে কোন কিছু ভাংতে না, গড়তে শিখিয়েছে ৷ আমি চাইতাম আমাদের একটা ভবিষ্যৎ হোক৷ হয়তো একদিন সব ঠিক হবে ।

আমি এত্ত চেস্টা করলাম, প্রতিটা তাহাজ্জুদে কাঁদতে লাগলাম , তবুও আল্লাহ বোধ হয় আমার কথা শুনলোই না ।

লাস্ট একটা বছর আমি একটা মানসিক ট্রমার মদ্ধে ছিলাম৷ আমি যে কি সব দিন পার করে এসেছি সেটা শুধু মাত্র আমি জানি । এসবের জন্য আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে গেলাম । আমার রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করল , আমার বাবাও আমার এসব চিন্তা নিতে না পেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লো । তবুও সবাইকে অনুরোধ করতে লাগলাম সবকিছু ঠিক করবার জন্য৷

কিছু আর ঠিক হলো না৷ আমি পারলাম না আর কিছু করতে । বিচ্ছেদের সুর যখন বাজে ,তা ঠেকানোর সাদ্ধ আমার নেই । বিনা কারণে , বিনা দোষে আমার উপর মিথ্যা কথা চাপায় দিয়ে আমাকে ছাড়তে তাদের বাধে নাই । আমার কোনো দোষ না থাকার পরও ৪ বছর প্রেম করার পর আমাকে বিয়ে করে ছাড়তে বিপুর ও বাধে নাই। তাতে সায় দিল তার পরিবার৷ কারণ সবাই তো জানে ছেলে অবিবাহিত৷

যে কোনো সম্পর্ক ধরে রাখার আমার এক অদ্ভুত টেন্ডেন্সি ছিলো । এ সম্পর্কটাও যেভাবে হোক কন্টিনিউ করতে চেয়েছিলাম । কিন্তু এখন আমি বুঝি ,আমি ভুল ছিলাম । যারা সুযোগ পাবার পরেও আমার কথা মাথায় রাখে না , আমি তাদের মনে জায়গা দিয়ে বসে ছিলাম । এ একটা বছর আমি অসম্ভব মানসিক অত্যাচার এর মধ্যে ছিলাম । প্রতিটা মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করা শুরু করল আমার কি হয়েছে, আমি এত অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি কেন৷ আমার পরিবার এবং খুব কাছের মানুষ বাদে আর কেও ই জানেনা গত এক বছর আমার সাথে কি হয়ে গেসে৷

আমি আলহামদুলিল্লাহ এখান থেকে বের হয়ে আসছি , কারণ পশুর সাথে থাকা যায়না। আমার জন্য দুয়া করবেন । আর আমি এত কিছু লিখতাম না । আমি কোন সিমপ্যাথি পেতে কিছু লিখতেছি না। সবার এত প্রশ্নের উত্তর আলাদা করে দেয়া আমার জন্য সম্ভব না। তাই সবাইকে জানানো দরকার মনে করি, আজকে যেটা আমার সাথে হচ্ছে যে কারোর সাথেই হতে পারে ।

আর তাছাড়া মানুষ আর পশুর মদ্ধে তফাত ও বোঝাও উচিত৷ যে কেবল সুন্দর দেখতে হলেই মানসিকতা সুন্দর হয় না । পারিবারিক শিক্ষা এক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা পালন করে। আমি জানি এই পোস্ট দেবার পর হয়তো আমার উপর অনেক আক্রমণ আসতে পারে । কিন্তু যেটা সত্যি ,সেটা সত্যিই ।সবাই বলে যা হয় সবকিছু নাকি ভালোর জন্য৷ জানিনা আসলেই তাই কি না !!

আমার সাথে যা হয়েছে তার জন্য আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম বিপু ৷ তবে আমি জানি না, এ দুনিয়ায় মানুষ ঠকানোর জন্য তোমার ক্ষমা আছে কি না !!

জীবনে এটাই দেখার বাকি আছে যে একটা মেয়ের সাথে এতো বছর সম্পর্ক রেখে, তাকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করে , বিভিন্ন ভাবে মারধোর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ছেড়ে দেবার পরও কোন বাপের এত বড় কলিজা যে তোমার মত ছেলের কাছে , এবং এই পরিবারের কাছে কন্যা দান করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.