সত্য কথা এবং হাদিস পড়ুন

True Story কথায় কথায় এক হিন্দু মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কোন সময় চলাফেরায় স্বস্তি বোধ করেন, নিশ্চিন্ত মনে থাকেন? তিনি যা উত্তর দিলো তার জন্য আমি কখনো প্রস্তাত ছিলাম না। তিনি বললেন আপনাদের রমজানের সময়। কারণ জানতে চাওয়ার উত্তরে তিনি বলেন “এই সময়ে বেশির ভাগ সময়েই মুসলিমরা রাস্তা ঘাটে থাকে। আর একজন মুসলিম বা রোযাদার ব্যাক্তি কখনো কারো দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায় না, আমি এটা বিশ্বাস করি। আর রাত ১২টা,১টা, ৩টা,৪টা যখনই বাহির হয়না কেন রাস্তা ঘাটে মুসলিমরা এই সময়ে থাকে। কেউ নামাজ পড়ে আসে, কেউ বা নামাজে যায়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম তো রোজা শেষ হয়ে গেলে বাকি সময়?

True Story

তখন তিনি বললেন যখন একজন দাঁড়িওয়ালা,টুপিওয়ালা,পাঞ্জাবীওয়ালা মানুষ আসেপাশে থাকে, তখন অস্বস্তিটা এমনি কেটে যায়। আমাদের পুরোহিতদের মতই এদের প্রতি শ্রদ্ধা আসে। আবারো কৌতুহলবশত জানতে চাইলাম আপনার পূজার সময়ে কেন না? তিনি বলেন “আমাদের পূজাতে বেশির ভাগ ছেলেই নারী উত্যক্ত করে থাকে, খুব কম সংখ্যক ভালো ছেলে আছে, তারা নাচে গানে নিজেকে বড় কিছু মনে করে।যখন আপনারা হজ্বে যান আপনারা সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে থাকেন, যখন রোজা থাকেন নিজ স্ত্রী থেকেও দূরে থাকেন। আর আমরা পূজায় গেলে কে কাকে পটাবে, নম্বর কিভাবে নিবে তাই নিয়ে থাকি!

মুসলিমদের প্রতি তার বিশ্বাস দেখে একজন মুসলিম হিসেবে খুব গর্ব হচ্ছিলো তখন!

True Story

হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে। একে রাইয়ান বলা হয়। এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে- সিয়াম পালনকারীগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল সিয়াম পালনকারী ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অত:পর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না।
(সহীহ বুখারী: ১৮৯৬, সহীহ মুসলিম: ১১৫২)

এক বোন,সে ছিলো ইউনিভার্সিটির ছাত্রী।

সেদিন ক্লাস শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল।ক্লাস শেষ করে মেট্রো স্টেশনের পাশের রাস্তাটা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল সে।রাস্তাটা ঘুটঘুটে অন্ধকার।লোকজন নেই বললেই চলে।হঠাৎ করে বোনটি তার সামনে দানবাকৃতির লোক দেখে খানিকটা শঙ্কিত হল।উচ্চতায় তার প্রায় দ্বিগুণ।তার দিকেই এগিয়ে আসছে।লোকটির মতিগতি সুবিধার মনে হচ্ছিল না।

বোনটি ভয়ে আয়াতুল কুরসী পড়তে লাগলো আর আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করতে লাগলো।পড়া শেষে দেখলো লোকটা দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।লোকটি কেনো পালিয়ে যাচ্ছে সে কিছুতেই বুঝতে পারলো না।তবে আলহামদুলিল্লাহ । আপদটা বিদায় হয়েছে।

এর প্রায় সপ্তাহ খানেক পর পত্রিকায় এক খবর মারফৎ বোনটি জানতে পারলো,গত রাতে সেই অন্ধকার রাস্তায় সেই একই জায়গায় এক নারী ধর্ষিত হয়েছে।সে সাথে সাথে পুলিশ স্টেশনে ছুটে গেলো। অফিসারদের বললো,”গত সপ্তাহে এক লোক ধাওয়া করেছিল সেখানে,আমার বিশ্বাস ঐ লোকটাই এ কাজটা করেছে।আমি তাকে চিনতে পারবো,আপনারা ব্যবস্থা করে নিন।” অবশেষে তার সহযোগীতায় ধর্ষককের খুঁজে বের করা হলো।

এক পর্যায়ে বোনটি ধর্ষককে জিজ্ঞেস করলো,”সেদিন আমাকে ফেলে দৌঁড়ে পালিয়েছিলেন কেনো?”
ধর্ষক লোকটি আতঙ্কিত গলায় বললো, “আপনি কি সেদিন দেখেননি সাদা পোশাক পরিহিত বিশাল গড়নের কয়েকজন মানুষ আপনার দুইপাশে গার্ড দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল?প্রথমে ,আমি যখন আপনার দিকে অগ্রসর হই,তখন তারা ছিলো না।কিন্তু হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেন তারা এসে পড়লো।তাদেরকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,কোনমতে জান নিয়ে পালিয়েছি।”

আল্লাহু আকবার।বোনটির মুখ থেকে তাক্ববীর বের হয়ে এলো।সে বুঝতে পারল এটা একমাত্র আয়াতুল কুরসীর মু’জেজা ছাড়া আর কিছুই নয়।যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন ,তার ক্ষতি করার সাধ্য কার।সুবহানাল্লাহ ♥

শিরোনামঃ “আয়াতুল কুরসী”
বইঃ দু’আ কবুলের গল্পগুলো থেকে।

?

Leave a Reply

Your email address will not be published.